ইমোশন-ড্রাইভেন ট্রেডিং বলতে এমন ট্রেডিংকে বোঝায়, যেখানে সিদ্ধান্ত নেয় “টেকনিক্যাল/ফান্ডামেন্টাল লজিক” নয়—বরং ভয়, লোভ, সন্দেহ, উত্তেজনা, রাগ বা হতাশা। এই অনুভূতিগুলো ট্রেডারের বিচার-বুদ্ধিকে দুর্বল করে এবং পরপর ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
১) ইমোশনে পরিচালিত ট্রেডিং কীভাবে তৈরি হয়?
যখন ট্রেডার মার্কেটকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন মন চেষ্টা করে সেই নিয়ন্ত্রণ “ইমোশন দিয়ে পূরণ” করতে।
ফলাফল:
- অস্থিরতা
- তাড়াহুড়া
- অতিরিক্ত লট
- ভুল সময় এন্ট্রি
- SL পরিবর্তন
- লোভে TP বাড়ানো
- রিভেঞ্জ ট্রেডিং
অর্থাৎ সিদ্ধান্ত সাময়িক অনুভূতির ওপর দাঁড়িয়ে যায়—যা প্রায় সবসময়ই ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়।
২) ইমোশন-ড্রাইভেন ট্রেডিংয়ের প্রধান লক্ষণ
১. ভয় (Fear)
- ট্রেড ধরতে ভয়
- SL হিট হওয়ার ভয়
- লস দেখা মাত্রই ট্রেড বন্ধ করা
- ভালো সেটআপ হলেও এন্ট্রি না নেওয়া
২. লোভ (Greed)
- “আর একটু উঠুক…” ভেবে হোল্ড করা
- টার্গেটের পরও বের না হওয়া
- অতিরিক্ত লট সাইজ নিয়ে ট্রেড
৩. সন্দেহ (Doubt)
- নিজের প্ল্যান নিয়ে নিশ্চিত না থাকা
- প্রতিটি ক্যান্ডেল দেখে সিদ্ধান্ত বদলানো
- অন্যের বিশ্লেষণে প্রভাবিত হওয়া
৪. রিভেঞ্জ (Revenge Trading)
- লস রিকভার করার তাড়না
- মার্কেটকে “হারানোর” চেষ্টা
- সিরিয়াল ট্রেড করা
৫. ওভারকনফিডেন্স
- ছোট লাভের পর নিজেকে অজেয় ভাবা
- নিয়ম মেনে না চলা
- মনে হওয়া “আমি সবসময় রাইট!”
৩) ইমোশন কিভাবে ট্রেড নষ্ট করে?
McDowell দেখিয়েছেন—
ইমোশনাল ট্রেডিং = অনির্দেশ্য ট্রেডিং (Random Trading)
ইমোশন যত বেশি → স্ট্রাটেজি তত কম কাজ করে।
ইমোশন যত বেশি → রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ভেঙে যায়।
ইমোশন যত বেশি → ধৈর্য কমে → ওভারট্রেডিং।
ইমোশনাল ট্রেডাররা সাধারণত:
- ট্রেন্ডের বিপরীতে ট্রেড করে
- খুব দেরি করে এন্ট্রি নেয়
- আগে বের হয়ে যায়
- SL/TP নিজের ইচ্ছায় নাড়াচাড়া করে
- অকারণে বেশি চার্ট দেখে স্ট্রেস বাড়ায়
৪) কেন ইমোশন আসে?
১) অনিশ্চয়তা → বাজার সবসময় অনির্দেশ্য
২) টাকা হারানোর ভয়
৩) নিজেকে প্রমাণ করার চাপ
৪) বড় লাভের লোভ
৫) অধৈর্যতা
৬) অতিরিক্ত চার্ট দেখা
Trading psychology-তে বলা হয়—
👉 যারা মার্কেটকে নির্দেশ করতে চায়, তারাই সবচেয়ে ইমোশনাল হয়।
👉 যারা শুধু ফলো করে, তারা শান্ত থাকে।
৫) ইমোশন-ড্রাইভেন ট্রেডিং থেকে মুক্তির উপায়
১. প্রি-ডিফাইন্ড ট্রেডিং প্ল্যান
✔ কোন সেটআপে এন্ট্রি
✔ কোথায় SL/TP
✔ কোন টাইমফ্রেম
✔ কত লট
সব আগেই নির্ধারণ করা।
নিয়ম স্থির → ইমোশন দুর্বল।
২. রিস্ক ছোট রাখা
যত কম ঝুঁকি, তত কম ভয়।
SL বড় হলে মন ভয় পায়।
লট বেশি হলে লোভ জাগে।
৩. জার্নালিং
প্রতিটি ট্রেডের সাথে “ইমোশন স্কোর” লিখে রাখা:
- ভয়
- লোভ
- রাগ
- সন্দেহ
- আত্মবিশ্বাস
নতুন ট্রেডারদের জন্য জার্নালিং সেরা অ্যান্টি-ইমোশন টুল।
৪. চার্ট থেকে বিরতি
সংকেত না থাকলে চার্ট না দেখা।
চার্ট বেশি দেখলেই মাথায় “ফেক সেটআপ” তৈরি হয়।
৫. রিল্যাক্সেশন টেকনিক
- ৫ মিনিট ডিপ ব্রিদিং
- ১০ মিনিট বিরতি
- চোখ ঘোরানো
- শরীর স্ট্রেচ করা
এগুলো ট্রেডিং মাইন্ডকে রিসেট করে।
৬. প্রফেশনাল মনোভাব
“আজ লাভ করতেই হবে”—এই চিন্তা বাদ।
বরং ভাব:
➡ “আজ শুধু আমার প্ল্যান ফলো করতে হবে।”
৬) ইমোশনাল ট্রেডার বনাম প্রফেশনাল ট্রেডার
বিষয় | ইমোশনাল ট্রেডার | প্রফেশনাল ট্রেডার |
সিদ্ধান্ত | অনুভূতি | নিয়ম |
SL | এদিক ওদিক | স্থির |
TP | লোভে বাড়ে | টাচ করলেই আউট |
এন্ট্রি | Random | Setups |
মনোভাব | তাড়াহুড়ো | ধৈর্য |
আত্মবিশ্বাস | ওঠানামা করে | স্থিতিশীল |
সারাংশ (Summary)
ইমোশন-ড্রাইভেন ট্রেডিং হলো ট্রেডারের সবচেয়ে বড় শত্রু।
এটি স্ট্রাটেজি, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, এবং ধারাবাহিকতা—সব নষ্ট করে দেয়।
✔ ভয় নিয়ন্ত্রণ করলে ট্রেডিং স্থির হয়
✔ লোভ কাটলে লাভ রক্ষা হয়
✔ সন্দেহ কমলে সিদ্ধান্ত দ্রুত হয়
✔ রেভেঞ্জ কাটলে অ্যাকাউন্ট টিকে যায়
প্রফেশনাল ট্রেডাররা কখনোই ইমোশনে ট্রেড করে না—
তারা প্ল্যান + শৃঙ্খলা + মানসিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
📢 শেয়ার করুন ও সাবস্ক্রাইব করুন
এই গাইডটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যারা ট্রেডিং শিখতে চান!
🔔 সাবস্ক্রাইব করুন নতুন পোস্টের আপডেট পেতে।


Social Plugin