বরং ট্রেডিংয়ের আগে ও পরে নিজের মানসিক অবস্থাকে মূল্যায়ন করা।
Bennett A. McDowell দেখিয়েছেন—
একজন সফল ট্রেডার দিনে যতটা সময় চার্টে দেয়,
তার অর্ধেক সময় নিজের মানসিক প্রস্তুতি ও মূল্যায়নে ব্যয় করে।
কারণ:
অস্থিতিশীল মন = অস্থিতিশীল সিদ্ধান্ত = অস্থিতিশীল ফলাফল
একটি ট্রেড নেওয়ার আগেই যদি মন ভারসাম্যহীন হয়,
তাহলে সেটআপ যত শক্তিশালী হোক—ফলাফল খারাপ হবে।
১) কেন মানসিক মূল্যায়ন প্রয়োজন?
ট্রেডের আগে
- ভয় থাকলে এন্ট্রি মিস হবে
- অতিরিক্ত উত্তেজনা থাকলে ওভারট্রেডিং
- সন্দেহ থাকলে SL/TP বদলানো
- স্ট্রেস থাকলে তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত
- রাগ বা হতাশা থাকলে রিভেঞ্জ ট্রেড
অর্থাৎ মন শান্ত না হলে ট্রেডেই নামা উচিত নয়।
ট্রেডের পরে
- ইমোশন কি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে?
- ভুল সিদ্ধান্তের কারণ কী?
- নিয়ম ভেঙেছি কি না?
- SL বা TP কি সঠিক ছিল?
- কোন অনুভূতি লাভ/ক্ষতি বাড়িয়েছে?
পরবর্তী ট্রেড আরও ভালো করার মূল শক্তি এই মূল্যায়ন থেকেই আসে।
২) ট্রেডের আগে প্রি-মার্কেট মানসিক চেকলিস্ট
এটি হলো “Pre-Trade Mental Evaluation”
– প্রফেশনাল ট্রেডাররা প্রতিদিন ব্যবহার করে।
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি “YES” না হয়,
তাহলে ট্রেড শুরু করাই উচিত নয়।
✔ ১. আমি কি শান্ত ও মানসিকভাবে স্থির?
স্ট্রেস, রাগ, হতাশা থাকলে ট্রেড অফ।
✔ ২. আজ কি আমি বাজারে বাধ্য হয়ে আসছি, নাকি প্ল্যান ফলো করতে?
লাভ করার চাপ = ইমোশনে ভুল সিদ্ধান্ত।
✔ ৩. আজ আমার স্ট্রাটেজি প্রস্তুত ও পরিষ্কার?
এন্ট্রি–SL–TP আগেই ঠিক।
✔ ৪. আমার রিস্ক লেভেল কি আজ আরামদায়ক?
অতিরিক্ত রিস্ক = ভয়।
✔ ৫. গত রাত/গত ট্রেডের মানসিক প্রভাব কি কাটানো হয়েছে?
বড় লসের পর ট্রেডিং = বিপদ।
বড় লাভের পর ট্রেডিং = ওভারকনফিডেন্স।
✔ ৬. আমি কি দ্রুত লাভ বা রেভেঞ্জ ট্রেডের চিন্তায় আছি?
থাকলে বিরতি নেওয়াই শ্রেয়।
৩) ট্রেড চলাকালীন মানসিক মূল্যায়ন
ট্রেড ওপেন হওয়ার পরে অনুভূতিগুলো দ্রুত বদলায়।
তাই তিনটি সময় মাইন্ড চেক করা হয়:
১) এন্ট্রি নেওয়ার পর ২ মিনিট
নিজেকে প্রশ্ন:
- আমি কি সিদ্ধান্ত বদলাতে চাই?
- ভয় বা লোভ কি আসছে?
- SL/TP কি পরিবর্তন করার ইচ্ছা হচ্ছে?
এগুলো অনুভূতি হলে থামতে হবে—
কারণ এমন অনুভূতি আসে “অস্থির” মনের কারণে।
২) ট্রেড মাঝপথে চলার সময়
- চার্ট অতিরিক্ত দেখা
- অকারণে SL প্রফিটে এনে ফেলা
- ট্রেড বড় লসে যাওয়ার ভয়
- প্রিম্যাচিউর ক্লোজ করা
প্রফেশনাল ট্রেডাররা “ট্রেড ম্যানেজমেন্ট” এ ৯০% সময় শান্ত থাকে।
৩) ট্রেড ক্লোজের আগে
- খুব তাড়াতাড়ি লাভ তুলে নেওয়ার লোভ
- বিপরীত দিকে চললে আতঙ্ক
- “আর একটু অপেক্ষা করি…” চিন্তা
এগুলো সব ইমোশনাল সিগন্যাল।
নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হবে—
“আমি প্ল্যান ফলো করছি, অনুভূতি নয়।”
৪) ট্রেড শেষে পোস্ট-ট্রেড মানসিক মূল্যায়ন
এই অংশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এটি ছাড়া ট্রেডার “উন্নতি” করতে পারে না।
McDowell ট্রেড শেষে তিনটি প্রশ্ন করতে বলেন:
✔ ১. আমি কি আমার প্ল্যান ফলো করেছি?
হ্যাঁ → খুব ভালো
না → কেন? কোথায় সমস্যা?
✔ ২. কোন ইমোশন আমার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে?
ইমোশন লিখে রাখা (রেটিং ১–৫):
- ভয়
- লোভ
- সন্দেহ
- রাগ
- উত্তেজনা
- আত্মবিশ্বাস
- বিভ্রান্তি
একটি চার্ট গড়ে উঠবে—
কোন ইমোশন বেশি হলে কোন ভুলগুলি পুনরায় ঘটে।
✔ ৩. আজকের অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখলাম?
এটি জার্নালিংয়ের সোনালী অংশ।
ছোট ৩ লাইনই যথেষ্ট:
- আজ কি ভালো করেছি
- কি ভুল করেছি
- কাল ঠিক করতে হবে কী
এর ফল:
ধীরে ধীরে একজন ট্রেডারের মন শান্ত, যৌক্তিক ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
৫) একটি প্রফেশনাল ট্রেডারের “মেন্টাল স্কোরকার্ড”
নীচে একটি উদাহরণ:
মানসিক অবস্থা | স্কোর (১–১০) |
শান্ত/স্থিতিশীল | 8 |
ভয় | 3 |
লোভ | 2 |
ফোকাস | 9 |
সন্দেহ | 4 |
ওভারকনফিডেন্স | 2 |
প্রতিটি ট্রেড শেষে এই স্কোর পূরণ করলে ৩০ দিনের মধ্যে বুঝে যাবে—
আপনার মানসিক দুর্বলতা কোথায়, এবং সেটি কীভাবে ঠিক হবে।
সারাংশ (Summary)
- ট্রেডিংয়ের ৭০% নির্ভর করে “মাইন্ডস্টেট” এর উপর।
- ট্রেডের আগে মানসিক স্থিতি না থাকলে ট্রেড শুরু করা উচিত নয়।
- ট্রেড চলাকালীন ভয়–লোভ–সন্দেহ মনকে নষ্ট করে, সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করে।
- ট্রেড শেষে মানসিক মূল্যায়ন একজন ট্রেডারকে পরের দিন আরও ভালো করে তোলে।
- ধারাবাহিকভাবে মানসিক চেকলিস্ট ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে মন শক্তিশালী হয়—
এবং ট্রেডিং স্থির, ধারাবাহিক ও পেশাদার হয়ে ওঠে।
📢 শেয়ার করুন ও সাবস্ক্রাইব করুন
এই গাইডটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যারা ট্রেডিং শিখতে চান!
🔔 সাবস্ক্রাইব করুন নতুন পোস্টের আপডেট পেতে।


Social Plugin