T-ART পর্ব 1.2: ভয়, লোভ ও সন্দেহ

(Fear, Greed & Doubt – The Three Enemies of Trading)

ট্রেডিংয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মার্কেট নয়
বরং নিজের অনুভূতিগুলোর সাথে যুদ্ধ

তিনটি আবেগ ট্রেডারদের সফল হতে সবচেয়ে বেশি বাধা দেয়:

1.     ভয় (Fear)

2.     লোভ (Greed)

3.     সন্দেহ (Doubt)

এই পর্বে প্রতিটি আবেগ কীভাবে ট্রেডিং সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেকেন তা হয় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা ব্যাখ্যা করা হলো।


ভয় (FEAR) – ট্রেডারকে পঙ্গু করে দেয়

 ভয় কি ধরনের?

ট্রেডিংয়ে ভয় সাধারণত তিনভাবে প্রকাশ পায়:

(A) Entry Fear – এন্ট্রি নিতে ভয়

  • আগের ট্রেড লস হয়েছে → আবার লস হবার ভয়
  • মার্কেট volatile → এন্ট্রি মিস

ফল: ভালো সেটআপ থেকেও দূরে থাকা → প্রফিট মিস।


(B) Stop-loss Fear – SL লেগে যাবে এই ভয়

  • SL খুব টাইট করে
  • SL সরিয়ে দেয়
  • বড় লস হয়ে যায়

(C) Holding Fear – লাভ আসলেও ধরতে ভয়

  • সামান্য প্রফিট হলেই ক্লোজ
  • বড় মুভ ধরতে পারে না

 ভয় কেন হয়?

  • ধারাবাহিক লস
  • আত্মবিশ্বাসের অভাব
  • জ্ঞান কম
  • পুঁজি কম
  • অতীতে বড় লসের স্মৃতি

 ভয় দূর করার কৌশল

1) ছোট লট দিয়ে শুরু

বড় লট = বড় ভয়
ছোট লট = শান্ত ট্রেড


2) শক্তিশালী ট্রেডিং প্ল্যান

নিয়ম থাকলে ভয় কমে।


3) SL  Risk আগে ঠিক করে রাখা

ট্রেডের আগে জেনে যাও
"
আমি যদি হারিকত হারাব?"
এটা জানলে ভয় কমে যায়।


4) আগের লস ভুলে যাও (Reset Mindset)

ট্রেডিং একেকটা আলাদা ঘটনা।
আগের লস নতুন ট্রেডে প্রভাব ফেলতে পারে না।



লোভ (GREED) – অ্যাকাউন্ট ধ্বংসের সবচেয়ে দ্রুত মাধ্যম

লোভ ট্রেডারকে সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে বিচ্যুত করে।

 লোভের ৫টি লক্ষণ

(1) অযথা লট বাড়িয়ে ফেলা (Over-leverage)

  • "আজকে বড় প্রফিট করবো!"
  • এক ট্রেডেই সব বানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

 এক টান দিলে অ্যাকাউন্ট উড়ে যায়।


(2) বারবার অতিরিক্ত ট্রেড (Overtrading)

  • ১টি প্রফিট → ৫টি ট্রেড
  • লাভ দেখে উত্তেজনা → লস শুরু

(3) TP না মানা

  • TP লাগার পরে আরও ধরতে চাওয়া
  • শেষে লাভ → লস হয়ে যায়

(4) Losing Trade ধরে রাখা

  • "হয়ত আবার ফিরে আসবে…"
  • SL না মানা

(5) দ্রুত ধনী হওয়ার চিন্তা

ধীরে ধীরে ধারাবাহিক লাভ
এটাই আসল ট্রেডিং।
কিন্তু লোভ দ্রুত বড় লস বানায়।


 লোভ নিয়ন্ত্রণের কৌশল

1) Fixed Lot ব্যবহার

আবেগের ওপর ভিত্তি করে লট বাড়াবে না।


2) Daily Target নির্ধারণ করো

উদাহরণ:
দিনে 1%–2% হলেই যথেষ্ট।
তার বেশি করতে গেলে লোভ কাজ করবে।


3) TP লাগলে চার্ট থেকে বেরিয়ে যাও

Graph না দেখলে লোভ কম সক্রিয় হয়।


4) Quality Setup ছাড়া ট্রেড নিষিদ্ধ

ট্রেড সংখ্যা বেশি নয়
সেটআপের মান গুরুত্বপূর্ণ।



সন্দেহ (DOUBT) – আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়

সন্দেহ হলো ট্রেডিংয়ের সবচেয়ে নিঃশব্দ শত্রু।

 সন্দেহের ধরন

(A) Self-Doubt – নিজের বিশ্লেষণে সন্দেহ

  • চার্ট পড়তে পারি না
  • ভুল করব কিনা ভয়
  • নিজের উপর বিশ্বাস নেই

(B) System Doubt – স্ট্র্যাটেজির উপর সন্দেহ

  • ৩টি SL → "স্ট্র্যাটেজি কাজ করে না"
  • নতুন সিস্টেম খুঁজতে থাকা

 যার ফল → System hopping → Zero progress.


(C) Market Doubt – মার্কেট বুঝতে না পারা

  • মার্কেট যেদিকে যায়উল্টো ট্রেড নেওয়া
  • সিচুয়েশন বুঝতে না পারা

 সন্দেহ দূর করার কৌশল

1) Strategy Tested হওয়া চাই

ব্যাকটেস্ট + ফরওয়ার্ড টেস্ট
→ 
আত্মবিশ্বাস তৈরি করে।


2) Written Rules রাখো

নিয়ম থাকলে চিন্তা কমসন্দেহও কম।


3) প্রতিটি ট্রেড জার্নালে লিখো

সময়ের সাথে উন্নতি দেখলে সন্দেহ দূর হয়।


4) একই সিস্টেম  মাস ধরে নিয়মিত ফলো করো

System hopping বন্ধ করো।
একটি স্ট্র্যাটেজিতেই মাস্টারি করো।



ভয়লোভসন্দেহ → ট্রেডারের তিনটি শত্রু

এরা তিনজন একসাথে থাকলে ট্রেডারের আচরণ এমন হয়:

আবেগ

ট্রেডারের ভুল সিদ্ধান্ত

ভয়

Entry মিস, TP আগে ক্লোজ

লোভ

ওভারট্রেডওভারলট

সন্দেহ

সিস্টেম পরিবর্তনভুল বিশ্লেষণ

সঠিক মানসিকতা তৈরি করলেই  তিন শত্রুকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


সারমর্ম (Conclusion)

  • ট্রেডিং সাইকোলজি = টেকনিক্যালের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ
  • ভয় → সুযোগ হারানো
  • লোভ → অ্যাকাউন্ট ধ্বংস
  • সন্দেহ → অগ্রগতি বন্ধ

যে ট্রেডার এই তিন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে,
তার ট্রেডিং ফলাফল N times ভালো হতে শুরু করে।

📢 শেয়ার করুন  সাবস্ক্রাইব করুন

এই গাইডটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যারা ট্রেডিং শিখতে চান!
🔔 সাবস্ক্রাইব করুন নতুন পোস্টের আপডেট পেতে।