চার্ট সামনে থাকলেই মনে হয় আমরা খুব লজিক্যাল, খুব গণিতভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। কিন্তু বাস্তবে—
👉 ট্রেডার চার্ট দেখে নয়, মনের অবচেতন আবেগ দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।
স্টিনবার্গারের মতে:
“মার্কেট আপনাকে প্রতারিত করে না—আপনার আবেগ আপনাকে প্রতারিত করে।”
এই পর্বে আমরা দেখব আবেগ কীভাবে চার্টকে ভিন্নভাবে দেখায়, ভুলভাবে ব্যাখ্যা করায় এবং ফলস্বরূপ ভুল সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়।
১) আবেগ চার্টকে বিকৃত করে (Emotional Distortion)
চার্ট পরিবর্তন হয় না—
কিন্তু আপনি যা দেখেন, সেটা আপনার মনের অবস্থার উপর নির্ভর করে।
উদাহরণ
- ভয় থাকলে: চার্টের সব রিটেস্ট, পুলব্যাক আপনাকে বিপদ মনে হবে।
- লোভ থাকলে: রেজিস্ট্যান্স ছোট মনে হবে, ট্রেন্ড আরও শক্তিশালী ভাববেন।
- স্ট্রেস থাকলে: সাপোর্ট/রেজিস্ট্যান্স চোখে পড়বে না—সব এলোমেলো মনে হবে।
মনস্তাত্ত্বিক কারণ
👉 আবেগ আপনার মস্তিষ্কের “ফিল্টারিং সিস্টেম” (Reticular Activating System) বদলে দেয়।
👉 ফলে চার্টে যা খুঁজছেন, আপনি শুধু সেটাই দেখতে শুরু করেন।
এটাই emotional distortion।
২) “নিজের পছন্দের দিক” খুঁজে নেওয়া — Confirmation Trap
আপনি Buy ধরেছেন—
তাহলে চার্টের সব bullish signal আপনার চোখে স্পষ্ট হয়ে উঠবে,
কিন্তু bearish divergence, resistance, volume drop—এগুলো চোখেই পড়বে না।
এটাই Confirmation Bias, যা আবেগকে উস্কে দেয়।
এটি কীভাবে প্রতারণা করে?
- Buy করলে আপনি market-কে Buy দেখতে পাবেন
- Sell করলে Sell দেখতে পাবেন
- হঠাৎ বড় কাঠি দেখলে excitement থেকে ভুল এন্ট্রি
- সাম্প্রতিক লাভ থাকলে overconfidence
স্টিনবার্গার বলেন:
👉 “আপনার মাথায় আগে যে ট্রেডের চিন্তা থাকে, চার্টে প্রমাণ খুঁজে পেতে মন বাধ্য থাকে।”
৩) উদাহরণ: আবেগ কিভাবে সিদ্ধান্তকে উল্টো করে দেয়
পরিস্থিতি ১: লস হয়েছে
আপনি চার্ট খুললেন → এখনও ভয় আছে →
আপনার চোখে সবকিছু বিপজ্জনক মনে হবে →
ফলে এন্ট্রি মিস → পরে বাজার আপনার দিকেই যায় → আপনি আরও হতাশ।
পরিস্থিতি ২: ধারাবাহিক লাভ
আপনি চার্ট খুললেন → ডোপামিন হাই →
সব রেজিস্ট্যান্স দুর্বল মনে হবে →
অতিরিক্ত লট নিয়ে এন্ট্রি → বাজার উল্টো → বড় লস।
পরিস্থিতি ৩: তাড়াহুড়া
দ্রুত প্রফিট করতে হবে →
চার্টে “হাফ কনফার্মেশন” দেখেই ট্রেড →
কারণ তখন আপনার মস্তিষ্ক বলে—“হ্যাঁ এটা ঠিক আছে”।
ইউরেকা মোমেন্ট:
চার্ট এক থাকে,
কিন্তু আপনার মন কখনো Buy side heavy, কখনো Sell side heavy।
৪) আবেগ কিভাবে চার্ট বিশ্লেষণকে ভুল পথে নিয়ে যায়
১) ভয় (Fear)
- ছোট পুলব্যাকও trend reversal মনে হয়
- SL খুব কাছে সেট করা হয়
- TP আগেই কেটে ফেলা
- ভালো সেটআপ মিস করা
২) লোভ (Greed)
- শক্তিশালী resistance উপেক্ষা
- বেশি লট
- ট্রেড late chase করা
- ট্রেন্ড শেষের দিকে গিয়ে Buy/Sell করা
৩) আশা (Hope)
- SL না কাটতে চাওয়া
- লস trade ধরে রাখা
- “মার্কেট ফিরে আসবে” ভাবা
৪) হতাশা/রাগ (Frustration + Anger)
- অকারণে trade
- revenge trading
- impulsive entry
- অস্থির হয়ে একের পর এক এন্ট্রি
এই প্রতিটি অবস্থায় আপনার চোখ চার্টের “সত্যিকারের” স্ট্রাকচার দেখতে পারে না।
৫) আবেগ কিভাবে চার্টের ব্যাখ্যা বদলায় — ৬টি বাস্তব সংকেত
আবেগ | চার্টে বিকৃতি | আচরণ |
ভয় | Risk অতিরিক্ত বড় মনে হয় | Trade avoid |
লোভ | যেকোনো break-out সত্যি মনে হয় | Late entry |
রাগ | যেকোনো মুভ কনফার্মেশন মনে হয় | Revenge trade |
স্ট্রেস | Market এলোমেলো মনে হয় | Plan ভেঙে ফেলা |
Excitement | যেকোনো candle impulsive movement মনে হয় | Overtrading |
Hope | Reversal উপেক্ষা | Trade hold |
৬) আবেগ আপনাকে চার্টের সামনে প্রতারণা করলে কী করবেন?
✔ 1) Checklist ব্যবহার করুন
প্রতিটি ট্রেডের আগে—
- ট্রেন্ড
- লেভেল
- এন্ট্রি কনফার্মেশন
- SL
- RR
—৫টি পয়েন্ট pre-written থাকলে আবেগ কম কাজ করে।
✔ 2) Trading Rules লিখে রাখুন
নিয়ম মেনে চললে আবেগের স্থান কমে।
✔ 3) নির্দিষ্ট সেশন নির্ধারণ করুন
সময় ঠিক না থাকলে decision-making always emotional হয়।
✔ 4) Journal রাখুন
নিজের মন আগে কী ভাবতো তা জানতে পারবেন।
✔ 5) ট্রেড নেওয়ার আগে 10-sec Pause Rule
এটি decision & emotion–এর মধ্যে “ফায়ারওয়াল” তৈরি করে।
সংক্ষেপে: আবেগের প্রতারণা
- চার্ট আপনাকে প্রতারণা করে না
- আপনার মস্তিষ্ক চার্টকে ভুলভাবে দেখায়
- সেই ভুল দৃষ্টিভঙ্গি ভুল সিদ্ধান্ত তৈরি করে
- ভুল সিদ্ধান্ত ধারাবাহিক লস তৈরি করে
স্টিনবার্গারের শেষ কথা:
👉 “When emotions rise, perception becomes distorted.”
👉 “Distorted perception leads to distorted decisions.”
📢 শেয়ার করুন ও সাবস্ক্রাইব করুন
এই গাইডটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যারা ট্রেডিং শিখতে চান!
🔔 সাবস্ক্রাইব করুন নতুন পোস্টের আপডেট পেতে।


Social Plugin