DISC TRADER অধ্যায় ১০: ইমোশনাল ব্যালান্স — হার ও জয়ের পরেও স্থির থাকা শেখা

ট্রেডিং মানে হলো — অনিশ্চয়তার মাঝে স্থির থাকা শেখা।

Mark Douglas বলেন,

“A trader who can manage his emotions can manage his money.”

বাজারের উত্থান-পতনলাভ-ক্ষতি — এগুলো স্বাভাবিক।
কিন্তু যে ট্রেডার লাভের পরেও স্থির থাকতে পারেএবং
ক্ষতির পরেও শান্ত থাকতে পারে,
সেই ট্রেডারই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে।


আবেগ কেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়?

আমাদের মস্তিষ্কের প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা (Fight or Flight system) ট্রেডিংয়ের সময়ও সক্রিয় হয়।

  • ক্ষতি হলেভয়  রাগ জেগে ওঠে
  • লাভ হলেউচ্ছ্বাস  অহংকার জেগে ওঠে

কিন্তু বাজার কোনো অনুভূতির তোয়াক্কা করে না।
তাই আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নিলেই শুরু হয় অস্থিরতার দুষ্টচক্র —
👉 ভয় → ভুল সিদ্ধান্ত → ক্ষতি → আরও ভয় → আতঙ্ক।


ইমোশনাল ব্যালান্স কী?

ইমোশনাল ব্যালান্স মানে হলো,

বাজার যেভাবেই আচরণ করুক না কেনআমি আমার চিন্তা  আচরণে স্থির থাকব।

এটি সংবেদনশীলতা হারানো নয়বরং সংবেদনশীলতার মধ্যে সচেতন থাকা।
Mark Douglas 
বলেন,

“Being emotionally balanced doesn’t mean you stop feeling — it means you stop reacting.”


জয়ের পর মানসিক ভারসাম্য হারানো

অনেক ট্রেডার হারের ভয় পায় নাবরং জেতার পর হারায় নিয়ন্ত্রণ।
তারা ভাবে —

আমি এখন অপরাজেয়।
এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে নিয়ম ভেঙে ফেলে।

এই “Winning Euphoria” প্রায়ই পরবর্তী বড় ক্ষতির কারণ হয়।

তাই মনে রাখুন:
“A winning trade proves nothing — it just means one probability worked.”


হারের পর মানসিক ভারসাম্য হারানো

হারের পর বেশিরভাগ ট্রেডার অভিযোগঅনুশোচনা বা প্রতিশোধের ট্রেডিং শুরু করে।
Mark Douglas 
বলেন,

“If you see a loss as an attack on your self-worth, you will never stay objective.”

লস মানে ব্যর্থতা নয় — এটি কেবল সম্ভাবনা অনুযায়ী একটি ফলাফল।
এটি ব্যক্তিগত নয়পরিসংখ্যানগত।


 ইমোশনাল ব্যালান্স ধরে রাখার ৫টি কৌশল


 “Observe, Don’t React” অভ্যাস করুন

যখন আপনি ট্রেডের সময় ভয় বা উত্তেজনা অনুভব করেন,
সেটিকে চিনে নিনকিন্তু তাতে প্রতিক্রিয়া দেবেন না।
নিজেকে বলুন — “আমি এখন ভয় পাচ্ছিকিন্তু আমি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছি।


 প্রতিটি ট্রেডকে শেখার অংশ ভাবুন

ট্রেডের ফলাফল যাই হোক,
নিজেকে প্রশ্ন করুন —
👉 “আমি এই ট্রেড থেকে কী শিখলাম?”
এই চিন্তা আপনাকে নেতিবাচক আবেগ থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়ে যাবে।


 প্রি-ট্রেড  পোস্ট-ট্রেড রুটিন তৈরি করুন

  • ট্রেডের আগে  মিনিট গভীর শ্বাস নিন
  • নিজের ট্রেডিং নিয়মগুলো পড়ুন
  • ট্রেড শেষে ফলাফল দেখে শান্তভাবে বিশ্লেষণ করুন
    এই ছোট রুটিন মানসিক স্থিরতা আনে।

 নিজের পারফরম্যান্সকে অনুভূতির সঙ্গে মেলাবেন না

আজ ভালো ট্রেড মানে আপনি “ভালো ট্রেডার” — এটা নয়।
আজ খারাপ ট্রেড মানে আপনি “অযোগ্য” — এটাও নয়।
ট্রেডিং পারফরম্যান্স কখনো আপনার আত্মমূল্যের মাপকাঠি নয়।


 “Emotional Cooldown Period” রাখুন

একটি বড় জয় বা ক্ষতির পর ১৫৩০ মিনিট কোনো নতুন ট্রেড নেবেন না।
এই বিরতিটি আপনার আবেগীয় ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করে।


সফল ট্রেডারদের ইমোশনাল বৈশিষ্ট্য

গুণ

অর্থ

ধৈর্য

সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে পারে

নিরপেক্ষতা

জয়-পরাজয়ে মানসিকভাবে এক থাকে

আত্মনিয়ন্ত্রণ

আবেগে নয়নিয়মে চলে

সচেতনতা

নিজের অনুভূতিকে চিনতে পারে

আত্মসম্মান

ফলাফলের উপর নয়প্রক্রিয়ার উপর আত্মবিশ্বাস রাখে


বাস্তব উদাহরণ

ধরা যাকএকজন ট্রেডার টানা তিনটি ট্রেডে লাভ করেছে।
চতুর্থ ট্রেডে সে লট বাড়ায়কারণ “আমি এখন ফর্মে আছি।
ফলাফল — বড় ক্ষতি।

অন্যদিকেআরেকজন ট্রেডার একই অবস্থায় নিয়ম মেনে রিস্কেই থাকে।
সে জানে, “প্রতিটি ট্রেড নতুন সুযোগপুরোনো সাফল্যের পুনরাবৃত্তি নয়।
দ্বিতীয় ট্রেডারই ইমোশনাল ব্যালান্সড।


সারসংক্ষেপ (Summary)

বিষয়

মূল ধারণা

ইমোশনাল ব্যালান্স কী

আবেগকে চিনেনিয়ন্ত্রণে রাখা

প্রধান শত্রু

ভয়অহংকারঅতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস

সমাধান

সচেতনতানিয়মবিরতি  প্রতিফলন

ফলাফল

স্থিরধারাবাহিক  শান্ত ট্রেডিং মনোভাব


Mark Douglas বলেন —

“When you stop judging wins and losses as good or bad, you achieve emotional freedom.”

অর্থাৎআপনি যখন জয়-পরাজয়কে বিচার না করে গ্রহণ করতে শেখেন,
তখনই আপনি আবেগীয় স্বাধীনতা (Emotional Freedom) অর্জন করেন —
এবং সেটিই সফল ট্রেডিংয়ের সর্বোচ্চ স্তর।

📢 শেয়ার করুন  সাবস্ক্রাইব করুন

এই গাইডটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যারা ট্রেডিং শিখতে চান!
🔔 সাবস্ক্রাইব করুন নতুন পোস্টের আপডেট পেতে।